তোমাকে নিয়ে ছোট্ট একটা হালাল সংসার সাজানোর স্বপ্ন-
বহুদিন ধরে বুকের ভেতর লুকিয়ে রেখেছি।
একদম সেই নব্বই দশকের গল্পের মতো।
যেখানে ভালোবাসা মানেই ছিলো,
অল্পতেই "আলহামদুলিল্লাহ" বলা
আর একজন মানুষকে ঘিরেই পুরো পৃথিবী বানিয়ে ফেলা।
তোমাকে পাওয়া হয়ে গেলে,
আমার বড় কোন আর স্বপ্ন থাকবে না।
তোমাকে নিয়ে দূরে কোথাও হারিয়ে যেতে চাই,
সব কোলাহল, ব্যস্ততা আর ইটপাথরের শহর ছেড়ে,
ছোট্ট শান্ত কোন গ্রামে।
যেখানে তোমাকে নিয়ে বাঁধবো ছোট্ট একটি কুঁড়েঘর—
মাটির দেয়াল, খড়ের ছাউনি,
আর দরজার সামনে বাঁশের তৈরি ছোট্ট বারান্দা।
দূরের মসজিদ থেকে আজান ভেসে আসবে,
আর তুমি মাথায় কাপর তুলে
মুচকি হেসে আমার দিকে তাকাবে।
আমাদের ঘরে বিদ্যুৎ থাকবে না—
জোছনার আলোই হবে রাতের প্রদীপ।
পূর্ণিমা এলে জোছনার আলোয় ভেসে যাবে উঠোন,
আর অন্ধকার রাতগুলো কেটে যাবে—
হারিকেনের হলুদ আলোকে সঙ্গী করে।
আমি তোমার পাশে বসে কুরআনের আয়াত শোনাবো,
আর তুমি মুগ্ধ হয়ে শুনবে।
মাটির দেয়ালে আঙুল দিয়ে লিখে রাখবো তোমার নাম,
তার পাশেই আঁকবো ছোট্ট একটা হৃদয়।
বাড়ির পাশে থাকবে ছোট্ট একটা ফুলবাগান—
শিউলি, রজনীগন্ধা, গন্ধরাজ আর গোলাপে ভরা।
ভোরবেলা শিশির জমবে ফুলের পাপড়িতে,
আর ফুলের ঘ্রাণে ভরে যাবে আমাদের ছোট্ট উঠোন।
ফজরের আজানে ঘুম ভাঙবে,
আধোঘুম চোখে তুমি বলবে-
"এই... উঠো, নামাজের সময় হয়েছে।"
আমি তোমার হাতটা আলতো করে ধরে বলব-
"আরেকটু থাকো না পাশে..."
তুমি লজ্জামাখা হাসিতে বলবে-
"না... আগে নামাজ, তারপর তোমার সব আদর।"
নামাজ শেষে...
তুমি বারান্দায় দাঁড়িয়ে ভেজা চুল শুকাবে,
আর আমি মুগ্ধ হয়ে শুধু তোমাকেই দেখবো।
তখন তুমি এককাপ ধোঁয়া ওঠা চা এগিয়ে দিয়ে—
মুচকি হেঁসে জিজ্ঞেস করবে,
"এভাবে কী দেখো?"
আমি তোমার চোখের দিকে তাকিয়ে বলবো—
"দেখি... আল্লাহ্ আমার দোয়াটা কত সুন্দর করে কবুল করেছেন।"
এভাবেই হয়তো সময় থেমে যাবে— চুলে পাক ধরবে।
কোনো বিলাসিতা ছাড়া।
কোনো অভাবের অভিযোগ ছাড়া।
শুধু দু’জন মানুষের গভীর ভালোবাসায় ভরা—
একটা শান্ত, নরম, মায়াময় জীবনের।
তখন মনে হবে,
এই ছোট্ট কুঁড়েঘরটাই বুঝি—
পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর শান্ত জান্নাত।

